নকশী কাঁথার মাঠ পাঁচ – জসীমউদ্দীন | Nokshi kathar math bangla kobita lyrics by Jasimuddin
কবিতা আমাদের না বলা কথাগুলিকে প্রকাশ করার একটি বিশেষ মাধ্যম হিসেবে কাজ করে। এই নকশী কাঁথার মাঠ কবিতা লিরিক্স কবিতাটির মাধ্যমেও সেই একই বিষয়ের উল্লেখ পাওয়া গেছে।
কবি তাঁর এই নকশী কাঁথার মাঠ কবিতা লিরিক্স কবিতাটির মাধ্যমে আমাদের কে তাঁর মনের গহীন ভাবনার উল্লেখ করে আমাদের সামনে তাঁর বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছেন । আমরাও সেই একই রকমের উপলব্ধি পেয়ে থাকি কবির সেই নকশী কাঁথার মাঠ কবিতা লিরিক্স কবিতার প্রতিটি লাইন থেকে।
আমরা মানুষ, আমরা এই সমাজে বসবাস করে প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করি, কিন্তু আমরাই আবার সেই প্রকৃতির ধবংস করে থাকি, কবি তাঁর এই নকশী কাঁথার মাঠ কবিতা লিরিক্স কবিতাটির মাধ্যমে মানুষের অমানবিক ক্রিয়াকলাপ কে বাক্ত করেছেন।
কবির এই নকশী কাঁথার মাঠ কবিতা লিরিক্স কবিতাটি হাজার হাজার মানুষের মনে দাগ কাটতে সক্ষম হয়েছে এর বিশেষ কারন হল এই নকশী কাঁথার মাঠ কবিতা লিরিক্স কবিতাটির অসাধারন বাচন ভঙ্গি। কবি তাঁর কবিত্ব ভাব কে অসাধারন ভাবে প্রস্ফুটিত করেছেন তাঁর এই নকশী কাঁথার মাঠ কবিতা লিরিক্স কবিতাটির মাধ্যমে।
এই নকশী কাঁথার মাঠ কবিতা লিরিক্স কবিতাটি শুধুই ভারতবর্ষের পশ্চিমবঙ্গ, আসাম, ত্রিপুরা, মিজরাম, মনিপুর এর মধ্যেই সীমাবন্ধ নেই ,
কিংবা কবির এই নকশী কাঁথার মাঠ কবিতা লিরিক্স কবিতাটি বাংলাদেশের মধ্যেই আটকে নেই। এই নকশী কাঁথার মাঠ কবিতা লিরিক্স কবিতাটি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়েছে ।
বিশ্বের যেসব দেশে বিশেষ করে যেসব দেশে বাঙালি প্রবাসী-রা রয়েছেন যেমন- সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া , কাতার, কুয়েত, সৌদিআরব, নেপাল, ভুটান, মায়ানমার, ইত্যাদি দেশেও নকশী কাঁথার মাঠ কবিতা লিরিক্স কবিতাটি সমান ভাবে জনপ্রিয়।
নকশী কাঁথার মাঠ কবিতাটির লিরিক্স বা লিরিক

পাঁচ
আশ্বিনেতে ঝড় হাঁকিল, বাও ডাকিল জোরে,
গ্রামভরা-ভর ছুটল ঝপট লট্ পটা সব করে |
রূপার বাড়ির রুশাই-ঘরের ছুটল চালের ছানি,
গোয়াল ঘরের খাম থুয়ে তার চাল যে নিল টানি |
ওগাঁর বাঁশ দশটা টাকায়, সে-গাঁয় টাকায় তেরো,
মধ্যে আছে জলীর বিল কিইবা তাহে গেরো |
বাঁশ কাটিতে চলল রূপাই কোঁচায় বেঁধে চিঁড়া,
দুপুর বেলায় খায় যেন সে—মায় দিয়াছে কিরা |
মাজায় গোঁজা রাম-কাটারী চক্ চকাচক্ ধার,
কাঁধে রঙিন গামছাখানি দুলছে যেন হার |
মোল্লা-বাড়ির বাঁশ ভাল, তার ফাঁপগুলি নয় বড় ;
খাঁ-বাড়ির বাঁশ ঢোলা ঢোলা, করছে কড়মড় |
সর্ব্বশেষে পছন্দ হয় খাঁ-বাড়ির বাঁশ :
ফাঁপগুলি তার কাঠের মত, চেকন-চোকন আঁশ |
বাঁশ কাটিতে যেয়ে রূপাই মারল বাঁশে দা,
তল দিয়ে যায় কাদের মেয়ে—হলদে পাখির ছা!
বাঁশ কাটিতে বাঁশের আগায় লাগল বাঁশের বাড়ি,
চাষী মেয়ের দেখে তার প্রাণ বুঝি যায় ছাড়ি |
লম্বা বাঁশের লম্বা যে ফাঁপ, আগায় বসে টিয়া,
চাষীদের ওই সোনার মেয়ে কে করিবে বিয়া!
বাঁশ কাটিতে এসে রূপাই কাটল বুকের চাম,
বাঁশের গায়ে বসে রূপাই ভুলল নিজের কাম |
ওই মেয়ে ত তাদের গ্রামে বদনা-বিয়ের গানে,
নিয়েছিল প্রাণ কেড়ে তার চিকন সুরের দানে |
“খড়ি কুড়াও সোনার মেয়ে! শুকনো গাছের ডাল,
শুকনো আমার প্রাণ নিয়ে যাও, দিও আখার জ্বাল |
শুকনো খড়ি কুড়াও মেয়ে! কোমল হাতে লাগে,
তোমায় যারা পাঠায় বনে বোঝেনি কেন আগে?”
এমনিতর কত কথাই উঠে রূপার মনে,
লজ্জাতে সে হয় যে রঙিন পাছে বা কেউ শোনে |
মেয়েটিও ডাগর চোখে চেয়ে তাহার পানে,
কি কথা সে ভাবল মনে সেই জানে তার মানে!
এমন সময় পিছন হতে তাহার মায়ে ডাকে,
“ওলো সাজু! আয় দেখি তোর নথ বেঁধে দেই নাকে!
ওমা! ও কে বেগান মানুষ বসে বাঁশের ঝাড়ে!”
মাথায় দিয়ে ঘোমটা টানি দেখছে বারে বারে |
খানিক পরে ঘোমটা খুলে হাসিয়া এক গাল,
বলল, “ও কে, রূপাই নাকি? বাঁচবি বহকাল!
আমি যে তোর হইযে খালা, জানিসনে তুই বুঝি?
মোল্লা বাড়ির বড়ুরে তোর মার কাছে নিস্ খুঁজি |
তোর মা আমার খেলার দোসর—যাকগে ও সব কথা,
এই দুপুরে বাঁশ কাটিয়া খাবি এখন কোথা?”
রূপাই বলে, “মা দিয়েছেন কোঁচায় বেঁধে চিঁড়া”
“ওমা! ও তুই বলিস কিরে? মুখখানা তোর ফিরা!
আমি হেথা থাকতে খালা, তুই থাকবি ভুখে,
শুনলে পরে তোর মা মোরে দুষবে কত রুখে!
ও সাজু, তুই বড় মোরগ ধরগে যেয়ে বাড়ি,
ওই গাঁ হতে আমি এদিক দুধ আনি এক হাঁড়ি |”
চলল সাজু বাড়ির দিকে, মা গেল ওই পাড়া |
বাঁশ কাটতে রূপাই এদিক মারল বাঁশে নাড়া |
বাঁশ কাটিতে রূপার বুকে ফেটে বেরোয় গান,
নলী বাঁশের বাঁশীতে কে মারছে যেন টান!
বেছে বেছে কাটল রূপাই ওড়া-বাঁশের গোড়া,
তল্লা বাঁশের কাটল আগা, কালধোয়ানির জোড়া ;
বাল্ কে কাটে আল্ কে কাটে কঞ্চি কাটে শত,
ওদিক বসে রূপার খালা রান্ধে মনের মত |
সাজু ডাকে তলা থেকে, “রূপা-ভাইগো এসো,”
—এই কথাটি বলতে তাহার লজ্জারো নাই শেষও!
লাজের ভারে হয়তো মেয়ে যেতেই পারে পড়ে,
রূপাই ভাবে হাত দুখানি হঠাৎ যেয়ে ধরে |
যাহোক রূপা বাঁশ কাটিয়া এল খালার বাড়ি,
বসতে তারে দিলেন খালা শীতল পাটি পাড়ি |
বদনা ভরে জল দিল আর খড়ম দিল মেলে,
পাও দুখানি ধুয়ে রূপাই বসল বামে হেলে |
খেতে খেতে রূপাই কেবল খালার তারীফ করে,
“অনেক দিনই এমন ছালুন খাইনি কারো ঘরে |”
খালায় বলে “আমি ত নয়, রেঁধেছে তোর বোনে,”
লাজে সাজুর ইচ্ছা করে লুকায় আঁচল কোণে |
এমনি নানা কথায় রূপার আহার হল সারা,
সন্ধ্যা বেলায় চলল ঘরে মাথায় বাঁশের ভারা |
খালার বাড়ির এত খাওয়া, তবুও তার মুখ,
দেখলে মনে হয় যে সেথা অনেক লেখা দুখ |
ঘরে যখন ফিরল রূপা লাগল তাহার মনে,
কি যেন তার হয়েছে আজ বাঁশ কাটিতে বনে |
মা বলিল, “বাছারে, কেন মলিন মুখে চাও?”
রূপাই কহে, “বাঁশ কাটিতে হারিয়ে এলেম দাও |”
কবির এই অসামান্য লেখনীর জন্য বিশেষ করে Nokshi kathar math kobita lyrics এই কবিতাটি লেখার কারনে জাতি কবিকে মনের গহীনে স্থান দিয়েছেন। কবির এই অসাধারন লেখনীর কারনে জাতির মনে তাঁর নাম স্বর্ণাক্ষরে লিখিত থাকবে।
আমরা বিশেষ করে কবির এই Nokshi kathar math kobita lyrics কবিতাটির জন্য তাঁর কাছে বিশেষভাবে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। আপনাদের কাছে অনুরোধ আপনারাও কবির জন্য স্রষ্টার কাছে প্রার্থনা করবেন, যাতে এই Nokshi kathar math kobita lyrics কবিতাটি লেখার জন্য তাঁকে উত্তম প্রতিদান প্রদান করেন।
যদি আপনাদের কাছে Nokshi kathar math kobita lyrics এই কবিতাটি ভালো লাগে, তাহলে আপনারা আপনাদের প্রিয়জন দের সাথে এই Nokshi kathar math kobita lyrics কবিতাটি শেয়ার করুন।
আর আপনারা যদি এই Nokshi kathar math kobita lyrics এর মতো কবিতা পেতে চান তবে আমাদের এই ওয়েবসাইট-টি কে অনুসরণ করতে পারেন। আমাদের ফেসবুক পেজ , আমাদের ইউটিউব চ্যানেল টিকে ও সাবস্ক্রাইব করতে পারেন।
পরবর্তীতে আপনারা কোন বিষয়ের উপরে কবিতা চান তা আমাদেরকে কমেন্ট করুন , আমরা যথা সম্ভব আপনাদের পছন্দ মতো কবিতা আপনাদের সামনে উপস্থিত করার চেষ্টা করবো।
0 মন্তব্যসমূহ